![]()


খলিলুর রহমান, বড়লেখা :
বড়লেখা উপজেলার সোনাতনপুর গ্রামের মনিপুরি সম্প্রদায়ের এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে তিনটি মহিষ চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর সদস্য বাবাতন সিংহের প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের মহিষগুলো ৭ এপ্রিল রাতে চুরি হয়। ঘটনার পরপরই থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও দুইদিনেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকালুকি হাওড়ের চাতলা বিলের পাড়ে ছাদু মিয়ার বাতান থেকে একটি চোরাই মহিষ উদ্ধার এবং দুলাল মিয়া নামক এক চোরকে আটক করেন স্থানীয়রা। এ সময় ছাদু মিয়া পালিয়ে যায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহেদুল ইসলাম সুমনের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত মহিষ ও আটক ব্যক্তিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পরে শনিবার বিকেলে বড়লেখা থানা পুলিশ দুলাল মিয়াকে মহিষ চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ পারভেজ জমাদার জানান, আটক দুলালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাকি দুই মহিষ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
ইউপি সদস্য সাহেদুল ইসলাম সুমন জানান, পুলিশ শুরুতে অভিযোগ পাওয়ার পরও নির্লিপ্ত ছিল। পরে এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় একটি মহিষ উদ্ধার ও একজনকে আটক করা সম্ভব হয়। তার দাবি, চুরি হওয়া বাকি মহিষ দুটি দ্রুত উদ্ধারে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, বাবাতন সিংহ অভিযোগ করেন, এই মহিষগুলোই ছিল তার পরিবারের একমাত্র জীবিকা। তিনি বলেন, “মহিষ চুরি যাওয়ার পর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো সাড়া পাইনি। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি মহিষ উদ্ধার হলো, কিন্তু বাকিগুলোর কোনো খোঁজ নেই।”
উল্লেখ্য, এর আগেও বাবাতন সিংহের ভাতিজা আইকমনি সিংহের একটি গরু চুরি হয়েছিল, যার এখনও কোনো হদিস মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাদু মিয়া নামক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে হাওড় এলাকায় গরু-মহিষ রাখার বাতানের আড়ালে চোর সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।